মেয়র থেকে প্রেসিডেন্ট, মালদ্বীপে জয়ী চীনপন্থি মোহামেদ মুইজু, বিদায় নিচ্ছেন ভারতপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম সোলিহ

মীযান ডেস্ক:  মালদ্বীপে দ্বিতীয় দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে বাজিমাত করলেন চীনপন্থি মোহামেদ মুইজু। তিনি ভারতপন্থি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সোলিহকে পরাজিত করেছেন। গতমাসে প্রথম দফার নির্বাচনে কেউই সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে না পারায় শনিবার দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হয়। প্রথম দফাতেও সবার থেকে এগিয়ে ছিলেন মুইজু। উল্লেখ্য, প্রথম দফায় কেউ গরীষ্ঠতা না পেলে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন হয়।

সোমবার রাতে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন মোহামেদ মুইজু। কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়ে পরাজয় স্বীকার করে নেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ইব্রাহীম সোলিহ। উল্লেখ্য, বিজেতা মোহামেদ মুইজু মালদ্বীপের রাজধানী মালে শহরের মেয়র। এবার ভোটে তিনি ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লোগান নিয়ে প্রচার চালান। ১৭ই নভেম্বর তিনি ক্ষমতা হাতে নেবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও শাসন পরিচালনা করবেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট সোলিহ। তিনি ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। ৬১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট সোলিহ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিয়ে এগোচ্ছিলেন। এবার সেই সম্পর্ক কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, মুইজু বরাবরই চীনপন্থি বলে পরিচিত।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তবে এই নিকটবর্তী দ্বীপদেশে ক্ষমতার পালাবদল হলে কূটনৈতিক দোলাচলে বাড়ে। কারণ, এই উপমহাদেশে দুই শক্তিশালী ও প্রবল প্রতিপক্ষ হল চীন এবং ভারত। এই দুই দেশ বরাবরই প্রতিবেশি দেশগুলোকে নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে নানা কৌশল ও সহায়তা করে থাকে। নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোকে নিয়ে চীন বনাম ভারত কূটনৈতিকভাবে দড়ি টানাটনি চলে। এসব দেশে কখনও ভারতপন্থি, আবার কখনও চীনপন্থি সরকার মসনদে আসীন হয়। যাকে ভারত ও চীনের প্রভাব থাকে।    

ইব্রাহীম সোলিহর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রোগ্রেসিভ পার্টির (পিপিএম) আবদুল্লাহ ইয়ামিন। তার সময়কালে চীনের ঘনিষ্ঠ হয় মালদ্বীপ। সেই সময় তারা যোগ দেয় চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে। ইয়ামিন বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে ১১ বছরের জেল খাটছেন। তাই এবার নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। দেশটির জনসংখ্যা ৫ লক্ষ ৭২ হাজার। এর মধ্যে ৯৮.৬৯ শতাংশ মুসলিম। বৌদ্ধ ০.৬৫, খ্রিস্টান ০.২৯ এবং হিন্দু ০.২৯ শতাংশ।

মোহামেদ মুইজুর জন্ম ১৯৭৮ সালে। তিনি বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব লিডস থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন। আবদুল্লাহ ইয়ামিন ক্ষমতায় এসে তাঁকে আবাসন ও পূর্তমন্ত্রী করেন। তিনি বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০ কোটি ডলারের একটি সেতু নির্মাণ। যার মাধ্যমে রাজধানী মালে শহরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেন মুইজু। ২০২১ সালে তিনি রাজধানী মালে শহরের মেয়র নির্বাচিত হন। সেই অর্থে বলা যায়, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগানের সঙ্গে মিল রয়েছে মুইজুর। এরদোগানও ২০০৩ সালে ইস্তান্বুল শহরের মেয়র থেকেই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন।

Share :

Stay Connected

Advt.

%d bloggers like this: