মীযান ডেস্ক: মিসরের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আবারও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। দেশটিতে ডিসেম্বর মাসেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া আল–সিসি বর্তমানে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন। সোমবার তিনি নিজেই তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিন টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে আল–সিসি বলেন, ‘নতুন প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণে লড়াই চালানোর বিষয়ে মনস্থির করেছি। আমি মিসরবাসীকে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এবং নিজের বিবেক কাজে লাগিয়ে দেশপ্রেমিক ও যোগ্যতম প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
উল্লেখ্য, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে মিসর। রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটেছে। এমনকি সরকার চালাতে হিমশিম খেয়ে বাধ্য হয়ে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিরোধীদের দাবি, আগের দুটো নির্বাচনেই প্রার্থীরা হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন। এরপরও ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে আল–সিসি জয় পেতে পারেন। কারণ, কার্যত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে বিরোধী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচনকে পুরোপুরি প্রহসনে পরিণত করেছেন আলসিসি।
আগামী ১০–১২ ডিসেম্বর মিসরে নির্বাচনের তারিখ ঠিক রয়েছে। মিসরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসির সরকারকে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ২০১৩ সালে উৎখাত করে মসনদ দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান আল–সিসি। সেই থেকে টানা ১০ বছর তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে রয়েছেন। পরে ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি। অথচ তাঁকে সেনাপ্রধান পদে নিয়োগ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি-ই। সেই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে আজীবন কারাদণ্ড দেয় আলসিসির আজ্ঞাবহ সামরিক আদালত।
নির্জন কারাগারে তাঁর স্ত্রী-পুত্রদেরকে পর্যন্ত দেখা করতে দেওয়া হয়নি। জেলের ভিতর তাঁর ওপর জুলুম, নির্যাতনেরও অভিযোগ ওঠে। অবশেষে আদালতের এজলাস চলাকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হার্টফেল করে ইন্তেকাল হয় প্রেসিডেন্ট মুরসির। আলসিসি সরকার এতই নির্মম যে, প্রেসিডেন্ট মুরসির মৃত্যু সংবাদ যাতে কাক-পক্ষীও টের না পায় সেজন্য রাতের অন্ধকারে সমাহিত করে দেওয়া হয়। তাঁর পরিবার, আত্মীয়, স্বজন কেউই জানাযায় শামিল হতে কিংবা দাফন-কাফনে অংশ নিতে পারেননি।
অথচ গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করার পরেও আমেরিকা, ইউরোপ তথা পশ্চিমাবিশ্ব মিশরের বর্তমান সামরিক সরকারকে গণতন্ত্রী বলে আখ্যা দেয় এবং প্রেসিডেন্ট মুরসির নেতৃত্বে ইসলাম অনুসারী সরকারকে সমূলে উৎখাত করার পুরস্কার হিসেবে আলসিসিকে সবরকম সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে চলেছে তারা। এক্ষেত্রে তারা দোসর হিসেবে পেয়েছে আরব বিশ্বের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে। এদের সহায়তা ও ষড়যন্ত্রেই সেনাঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে উচ্ছেদ করেছিলেন আলসিসি।
