নির্বাচনের মুখে পোল্যান্ডে ঐতিহাসিক বিক্ষোভ, সরকার-বিরোধী আয়োজকদের দাবি ১০ লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত, পালাবদলের ইঙ্গিত

মীযান ডেস্ক:  পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ শামিল হয়েছে বলে খবর। এই ঐতিহাসিক বিক্ষোভের আয়োজকদের দাবি, দেশটির ইতিহাসে এত বড় সমাবেশ আর কখনও হয়নি। মধ্য ইউরোপের এই দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রবি ও সোমবার রাজধানী শহর ওয়ারশে বিরোধীদলগুলো একত্র হয়। ১৯৪৪ সালে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের প্রতিরোধের কথা স্মরণ করে বিশাল পতাকা ওড়ানো হয় এদিন। বিরোধী নেতারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনই পোল্যান্ডকে রক্ষা করার শেষ সুযোগ। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওয়ারশ শহর কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এই শহরের পুরসভা বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগামী ১৫ই অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন হতে চলেছে পোল্যান্ডে। গত দু-দফা নির্বাচনে জয় পেয়েছে রক্ষণশীল ‘ল এন্ড জাস্টিস’ পার্টি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধীরা এখন তাদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। 

সমাবেশে পোল্যান্ডের প্রধান বিরোধী নেতা ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, ভোটের মাধ্যমেই ডানপন্থীদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এবার পরিবর্তন অনিবার্য। সমাবেশে অনেক ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা এবং কিছু মার্কিন পতাকাও দেখা যায়। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড টাস্ক ২০০৭ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্স, স্পেন, বেলারুশ থেকে শুরু করে ইসরায়েল এমনকী পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে মাঝেমধ্যেই নানা রাজনৈতিক কারণে এমন প্রতিবাদ, বিক্ষোভ হয়। যেখানে অগণিত মানুষের ঢেউ সুনামির মতো আছড়ে পড়ে। কিন্তু একই ধরনের বিক্ষোভ ইরান বা অন্য কোনও মুসলিম দেশে হলে যায়নবাদী বা পশ্চিমা মিডিয়া রং চড়িয়ে তাকে অন্য আঙ্গিকে তুলে ধরে এবং পাশাপাশি ওইসব দেশে তাদের অনুগত তল্পিবাহক লবিকে উসকানি দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। সর্বোপরি সেই দেশের রিজিম চেঞ্জ বা সরকার বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে যাবতীয় সর্বাতম হীন প্রচেষ্টা চালায়। অথচ ইউরোপের দেশগুলোর ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পশ্চিমাদের কেন এই দ্বিচারিতা, সে প্রশ্ন দীর্ঘকালের। 




Share :

Stay Connected

Advt.

%d bloggers like this: