মীযান ডেস্ক: এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন হাঙ্গেরিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক ও গবেষক কাতালিন কারিকো এবং তাঁর সতীর্থ মার্কিন গবেষক ড্রিউ উইজম্যান। কিন্তু যে খবরে বিশ্ববাসী থমকে গিয়েছে, সেটা হল তুরস্ক বংশোদ্ভূত জার্মান মুসলিম দম্পতি উগুর শাহিন এবং ওজলেম তুরেসি সর্বপ্রথম কো-ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেও এবার তাঁরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেলেন না। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এমনটা হল? শাহিন-ওজলেম দম্পতি মুসলিম বলেই কি এই বঞ্চনা? নোবেল মনোনয়ন কমিটি কি পক্ষপাত করছে? অথচ এই মুসলিম দম্পতির গবেষণার ফসলকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে ফাইজার ও বায়োনটেকের করোনাভাইরাস টিকার অনুমোদন দিয়েছিল ব্রিটেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রথম সফল টিকা উদ্ভাবক এই তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম জার্মান দম্পতিকে সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ও পুরস্কার (ইমপ্রেস থিওফানো প্রাইজ) দিয়েছিল গ্রিস সরকার। ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর এই মুসলিম দম্পতির হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে গ্রিসের প্রেসিডেন্ট ক্যাটেরিনা সাকারানাপুলু বলেছিন, ‘প্রখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী দম্পতিকে গ্রীসের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ও প্রাইজ দিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। জীবন ও বিজ্ঞানকে তারা এক সাথে ধারণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। মানবতার সেবায় শাহিন ও তুরেসির অতুলনীয় অবদানের জন্য এই সম্মান দিয়ে আমরা গর্বিত। আমরা তাদের বিশ্বাস, নিষ্ঠা, মেধা, গবেষণা ও অধ্যবসায়কে পুরস্কৃত করেছি।’ এর আগে শাহিন ও তুরেসি দম্পতিকে করোনার টিকা আবিষ্কারের জন্য জার্মানির সর্বোচ্চ সম্মান (অর্ডার অব মেরিট) পুরস্কার দেয়া হয়। জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ার তাঁর সরকারি বাসভবনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তদানীন্তন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলও। ২০০৮ সালে শাহিন ও তুরেসি নিজস্ব ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি বায়ো-এনটেক প্রতিষ্ঠা করেন। জার্মানির এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানটি আমেরিকার খাতনামা ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের সাথে হাত মিলিয়ে ‘ফাইজার-বায়োনটেক’ নামে করোনার প্রথম টিকা আবিষ্কার করে। শাহিন ও তুরেসি দম্পতির ফাইজার টিকা করোনা প্রতিরোধে ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। অত্যাধুনিক এমআরএনএ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে তারা এ টিকা আবিষ্কার করেন। তুরস্ক থেকে জার্মানিতে ১৯৬০-এর দশকে আসা অভিবাসী পরিবারে শাহিন ও তুরেসি জন্ম নেন। চিকিৎসা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে ক্যানসার চিকিৎসা, আণবিক জীববিদ্যা ও টিকা প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় একত্রে সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন তারা।
